সেমিফাইনালের প্রথম পর্ব ঘরের মাঠেই খেলবে কলকাতা
আতলেতিকো দে কলকাতা ০ পুনে সিটি এফসি ০
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2689" align="alignleft" width="300"]
স্পেনীয় আন্তোনিও আবাসের বিরুদ্ধে স্পেনীয় হোসে মোলিনা ১-১ করতে পারলেন না, স্পেনীয় বেলেনকোসোর জন্যই! তিনটি করে হলুদ কার্ড দেখে ফেলায় ইয়াইন হিউম এবং হেলদের পোস্তিগাকে শুরু থেকে মাঠে নামাননি, পাছে আরও একটি হলুদ কার্ড দেখে সেমিফাইনালের প্রথম পর্বের বাইরে চলে যান মার্কি ও তারকা ফুটবলাররা। সোনার সুযোগ এসেছিল তাই, বেলেনকোসোর কাছে। স্ট্রাইকার হিসাবে তিনিই ছিলেন আতলেতিকো দে কলকাতার আক্রমণের মুখ। কিন্তু, ঘরের মাঠ রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে হ্যাটট্রিক মিস করে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ বেলেনকোসো।
ম্যাচ নিয়ে দেখার উৎসাহ ছিল একটিই – প্রাক্তন কোচের বিরুদ্ধে কেমন খেলে কলকাতা। মোলিনা এখানেও উৎসাহ শেষ করে দেন শুরুতেই, দ্বিতীয় দল নামিয়ে। প্রাথমিক লক্ষ্যপূরণ হয়ে গিয়েছে। সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন এক ম্যাচ বাকি থাকতে। কেনই বা সেই সুযোগ কাজে লাগাবেন না? তুলনায় তরুণতর ফুটবলার, যাঁরা কম সুযোগ পেয়েছিলেন, মোলিনা ভরসা রেখেছিলেন তাঁদের ওপর। কোচের আস্থার মর্যাদা যে রাখতে পেরেছেন তাঁরা প্রমাণ, ম্যাচের সেরা ফুটবলার হিসাবে প্রবীর দাসের উত্থান। সঙ্গে কিংশুক, জুয়েল, বিদ্যানন্দ ও রুইদাসের মতো ভারতীয় তরুণরা বোঝালেন, তৈরি আছেন তাঁরাও।
আবাস অন্তত এই সান্ত্বনা নিয়ে ফিরলেন যে, প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে দু-ম্যাচে অপরাজিত থাকলেন তিনি। সঙ্গে, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই – সেমিফাইনালে পৌঁছনো তিনটি দলকেই অন্তত একবার করে হারিয়েছেন, এই গৌরবও। যদিও শেষ চারে পৌঁছতে পারলেন না। ঘরের মাঠে কলকাতাকে হারানোর পর কলকাতায় কোনও দলই গোল করেনি। অবশ্য সেই তাগিদও কোনও দলেরই তেমন ছিল না। ‘ডেড রাবার’ হলে যা হয়! পুনে আগেই ছিটকে গিয়েছিল। এই ম্যাচ জিতলেও পাওয়ার কিছু নেই। সেই প্রেক্ষিতে খেলাও তেমনই।
বেলেনকোসো অবশ্য তবুও পারতেন ম্যাচে উত্তেজনা এনে দিতে, প্রাপ্ত সুযোগগুলোর সদ্ব্যবহার করলে। রুইদাস, বিদ্যানন্দ বা লারার পাস থেকে, কিংবা পিয়ারসনের শট অরিন্দম ভট্টাচার্য ফিরিয়ে বেলেনকোসোর পায়ে দেওয়ার পর ছ-গজের বক্সের বাইরে থেকে ফাঁকা গোলের সামনে দাঁড়িয়েও যেভাবে বাইরে মারলেন, কোচ মোলিনা আশা করতে পারেন শুধু, পরে তাঁকে নামানো হলে এমন সুযোগ আর কখনও হারাবেন না!
গ্রুপ পর্বে কলকাতা এবার ঘরের মাঠে পঞ্চম ম্যাচ ড্র করল। জিতেছে একটি, হেরেছে একটি। অর্থাৎ সাত ম্যাচে মোট পয়েন্ট ৮! আইএসএল-এ তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স, ঘরের মাঠে। মোট ২০ পয়েন্ট পেল। তৃতীয় স্থানে আছে, নর্থইস্ট বা কেরল শেষ ম্যাচে জিতলে কলকাতা চতুর্থ হবে। অর্থাৎ তৃতীয় বা চতুর্থ হচ্ছেই কলকাতা। তৃতীয় হলে দ্বিতীয় স্থানে-থাকা দলের বিরুদ্ধে আর চতুর্থ হলে শীর্ষে থাকা দলের বিরুদ্ধে খেলবে সেমিফাইনালে।
আর, তিনবারই সেমিফাইনালে পৌঁছে আইএসএল-এ সবচেয়ে ধারাবাহিক দল কলকাতা সেমিফাইনালের প্রথম পর্ব ঘরের মাঠেই খেলার সুযোগ পাচ্ছে, সামনের সপ্তাহে। সেখানে এমন পারফরম্যান্স হলে কিন্তু কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারবেন না নতুন কোচ হোসে মোলিনা!
No comments