আতলেতিকো দে কলকাতা ১ এফসি গোয়া ১
(দুতি ৬) (হোফ্রে পেনাল্টি ৭৭)
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2012" align="alignnone" width="300"]
গোলের পর দুটি। ছবি - আইএসএল[/caption]
আতলেতিকো দে কলকাতার প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে রেফারি ছিলেন তিনিই। মোট ছ’জনকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। কলকাতার ঘরে দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনিই রেফারি। মেক্সিকোর ফেরনান্দো গেরেরো রামিরেজ এবার ম্যাচে দেখালেন সাত হলুদ কার্ড, দুই লাল কার্ড, নিলেন একটি বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তও। কার্ড দেখানোয় তাঁর কোনও দ্বিধা নেই, পুনে-নর্থইস্ট ম্যাচেও দুজনকে লাল কার্ড দেখানোয় প্রমাণিত। চার ম্যাচে বাঁশি মুখে চারটি লাল কার্ড, ১৮ বার হলুদ কার্ড দেখিয়ে ফেলেছেন এখনই!
ম্যাচে কার্ড এত ঘন ঘন বেরলে যা হয়, ছন্দ কেটে যায় বারবার। তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে পরপর তিনটি ম্যাচ হেরে গিয়ে এফসি গোয়া চেয়েছিল এই ম্যাচে সর্বস্ব দিয়ে আক্রমণে গিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে আনতে। তাই প্রথমে গোল খেয়েও চেষ্টা ছাড়েনি। উল্টে ঘরের মাঠে কলকাতাকে বাধ্য করেছিল রক্ষণে মন দিতে। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত টানা সপ্তম ম্যাচেও কলকাতাক হারাতে পারল না জিকোর গোয়া।
গোল খাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, গোয়ার রাজু গায়কোয়াড়ের কাছে ছিল না বল। হিউম ছিলেন রাজুর পেছনে। একেবারেই অনাবশ্যক, রাজু কনুই চালিয়েছিলেন। হিউম পড়ে যান। রেফারি ফেরনান্দো রামিরেজ কাছেই ছিলেন। হলুদ কার্ড দেখাতে দ্বিধা করেননি। খেলার বয়স তখন সবে চার মিনিট। এফসি গোয়ার আরও দুই ফুটবলারকেও – সঞ্জয় বালমুচু এবং গ্রেগরি আর্নোলিন - একই সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তখনই, তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায়।
বক্সের ডান দিক থেকে হাভি লারা সেই ফ্রি কিকে বল রেখেছিলেন বাঁদিকে। হিউমের হেডে বল চলে এসেছিল বক্সের মধ্যে। সেই রাজু, আবার, হেড করলেন বল বক্সের বাইরে পাঠাতে। কিন্তু দুর্বল হেড, ভলির আদর্শ উচ্চতায় নিচের দিকে নেমে আসছে যখন, দুতির ডান পায়ের দুরন্ত ভলি। গোয়ার গোলরক্ষক শুভাশিস রায় চৌধুরির কিছু করার ছিল না। দুর্দান্ত গোলে কলকাতাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের নায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার দুতি।
তারপর ম্যাচে প্রাধান্য ছিল গোয়ারই। কিন্তু গোল পায়নি। ৫২ মিনিটে কলকাতার পিয়ারসনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি, ত্রিনদাদেকে ফাউলের জন্য। সরাসরি লাল কার্ড। হলুদ কার্ড দেখানোও যেত, কিন্তু রেফারির মনে হয়েছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কলকাতার কোচ মোলিনা সঙ্গে সঙ্গেই রুইদাসকে তুলে বিক্রমজিৎ সিংকে নামিয়েছিলেন, রক্ষণে জোর বাড়াতে। দশজনে কলকাতাকে ঘরের মাঠে অবশ্য খেলতে হল ৮ মিনিট মাত্র। রেফারি এবার বালমুচুকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখালেন প্রবীর দাসকে ফাউলের জন্য, বক্সের ঠিক মাথায়।
গোয়াকে আরও পিছিয়ে যাওয়ার হাত থেকে দুবার বাঁচান শুভাশিস, যাঁকে কাট্টিমনির পরিবর্তে শুরু থেকে খেলিয়েছিলেন জিকো। দুতি ব্যাক হিল করে বল রেখে দিয়েছিলেন হিউমের জন্য। ডানপায়ে মাটিঘেঁষা শট নিয়েছিলেন হিউম। কিন্তু শুভাশিস শুয়ে পড়ে বল বের করে দেন। তারও আগে লারার ফ্রি কিক লাফিয়ে ঠিক সময়ে ডান হাত বাড়িয়ে বের করে দেন। আর, গোয়ার গোল শোধ ৭৭ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে। হোফ্রের কর্নারে হাত লাগিয়ে ফেলেছিলেন বোর্খা, মনে করেছিলেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে হোফ্রেই গোল করেন দেবজিৎকে উল্টো দিকে ফেলে।
৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনও অপরাজিত আতলেতিকো দে কলকাতা উঠে এল তৃতীয় স্থানে। গোয়া থেকে গেল সবার শেষেই। তবে পয়েন্টের খাতা খুলল জিকোর দল!
No comments