আইএসএল-এ নতুন জন্ম রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের
শিবম দাস
[caption id="attachment_1992" align="alignleft" width="300"]
রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম, এখন। ছবি - আইএসএল[/caption]
একবছর আগেও স্টেডিয়ামটা ছিল। কিন্তু, আদৌ ছিল কি?
লাগোয়া মেনকা সিনেমা হলের জৌলুস ছিল অনেক বেশি। চারিদিকে ছড়ানো থাকত কাঁচের ভাঙা বোতল, স্টেডিয়ামের ঘরগুলো হয়ে উঠেছিল দুষ্কৃতীদের আতুঁরঘর। চারপাশ ভরে থাকত জঞ্জালে। ফুটবল খেলার মাঠের চারদিকে লম্বা ঘাস, পরিচর্যার অভাবে মাঠের অবস্থা বেহাল ও খেলার অযোগ্য। মাঠের একধারে কোনওমতে ভাঙা ঘর দখল করে টিকে ছিল সার্দান সমিতি ও টালিগঞ্জ অগ্রগামীর মতো প্রিমিয়ার ডিভিসনের দুটি ক্লাব।
বহুদিন খেলা হয়নি, এআইএফএফ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে লিজ নিলেও বিশেষ কিছু সুবিধা হয়নি। এই অস্বাস্থ্যকর ও খেলার অযোগ্য মাঠেই প্র্যাক্টিস করতেন তৎকালীন টালিগঞ্জে খেলা দীপেন্দু বিশ্বাস, আদিলেজা, উগা ওপারা, অসীম বিশ্বাসরা। ড্রেসিংরুমের অস্তিত্বই ছিল না। ছিল না সুনির্দিষ্ট বাথরুম।
কিন্তু এ’বছর যুবভারতী স্টেডিয়াম না পাওয়ায় রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামটাই হয়ে উঠেছে আতলেতিকো দে কলকাতার ঘরের মাঠ। আর তাতেই, ১৯৬১ সালে তৈরি হওয়া ২২ হাজার আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামটির পুর্নজন্ম। স্টেডিয়ামের চারদিকে বিশাল বিশাল পোস্টারের কাটআউট। হিউম, পোস্তিগাদের ছবি, কোনওটায় আবার বাংলার অর্ণব মন্ডল, দেবজিৎ-কিংশুকদের যুগলবন্দি। কোনও পোস্টারে লেখা 'আমার বুকে এটিকে", কোথাও আবার বিপক্ষ দলের প্রতি হুঙ্কার। স্টেডিয়ামের মূল ফটক থেকে রাস্তার দু-ধার কিছুটা কালো কাপড়ে মোড়া। আদালতের নির্দেশ মতো, পাখিরালয়কে সতেজ রাখতেই এই ব্যবস্থা। মাঠে ঢুকতেই চোখের আরাম। তৈরি হয়েছে সবুজে সাজানো মখমলের মতো সবুজ গালিচা। মাঝখানে, বিদেশি ঘরানায় কারুকাজ। এখানেই বল পায়ে দাপট দেখাবেন হিউম-দুতি-পোস্তিগারা।
একপাশের বসার জায়গাতে জড়ানো হয়েছে লালকার্পেট। অপরদিকে জায়েন্ট স্ক্রিন যেখানে দেখা যাবে খেলা। মাঝ-বরাবর দু’প্রান্তে বসানো হয়েছে নতুন চারটি আলোকস্তম্ভ। অস্থায়ী প্রেসবক্সে ওয়াই-ফাই জোন, টিভি। স্টেডিয়ামের ভিতরে আধুনিকতার মোড়কে তৈরি হয়েছে দুটি নতুন অস্থায়ী ড্রেসিংরুম। দর্শকদের স্বাছন্দ্যের কথা ভেবে পুর্নগঠিত দুটি বাথরুম। টিকিটের দাম অনুযায়ী চারভাগে বিভক্ত গ্যালারি। একটি বরাদ্দ ‘ফ্যানগ্যালারি’ হিসাবে।
শুধু, নেই-এর তালিকায় আইএসএল-এ চেনা ডিজে-দের রমরমা। আদালতের নির্দেশেই। স্টেডিয়াম এর বাইরে শরৎ ব্যানার্জি রোডের ভোলবদল ঘটেছে। চারিদিকে বাঁশের ব্যারিকেড, ঠিক দুর্গাপুজার ভিড় সামলাতে যেভাবে ঘিরে দেওয়া হয় সেভাবেই। প্রতিটি গেটে নিয়োগ করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী, চব্বিশ ঘন্টার জন্য। মাছি গলবারও অবকাশ নেই। প্রেস কার্ড ছাড়া স্টেডিয়ামে অন্যসময় ঢোকাও নিষেধ।
প্রথম ম্যাচ হয়ে গিয়েছে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে, গত ২ অক্টোবর। দ্বিতীয় ম্যাচ রবিবার। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের পর গতবারের ফাইনালিস্ট এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলবে কলকাতা। এ-বছর আইএসএল ট্রফি আসবে কিনা জানা নেই। তবে আতলেতিকো দে কলকাতার কর্তারা যে বাংলার একটি স্টেডিয়ামকে সুন্দর করে তুলে ধরলেন, সন্দেহ নেই।
[caption id="attachment_1992" align="alignleft" width="300"]
একবছর আগেও স্টেডিয়ামটা ছিল। কিন্তু, আদৌ ছিল কি?
লাগোয়া মেনকা সিনেমা হলের জৌলুস ছিল অনেক বেশি। চারিদিকে ছড়ানো থাকত কাঁচের ভাঙা বোতল, স্টেডিয়ামের ঘরগুলো হয়ে উঠেছিল দুষ্কৃতীদের আতুঁরঘর। চারপাশ ভরে থাকত জঞ্জালে। ফুটবল খেলার মাঠের চারদিকে লম্বা ঘাস, পরিচর্যার অভাবে মাঠের অবস্থা বেহাল ও খেলার অযোগ্য। মাঠের একধারে কোনওমতে ভাঙা ঘর দখল করে টিকে ছিল সার্দান সমিতি ও টালিগঞ্জ অগ্রগামীর মতো প্রিমিয়ার ডিভিসনের দুটি ক্লাব।
বহুদিন খেলা হয়নি, এআইএফএফ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে লিজ নিলেও বিশেষ কিছু সুবিধা হয়নি। এই অস্বাস্থ্যকর ও খেলার অযোগ্য মাঠেই প্র্যাক্টিস করতেন তৎকালীন টালিগঞ্জে খেলা দীপেন্দু বিশ্বাস, আদিলেজা, উগা ওপারা, অসীম বিশ্বাসরা। ড্রেসিংরুমের অস্তিত্বই ছিল না। ছিল না সুনির্দিষ্ট বাথরুম।
কিন্তু এ’বছর যুবভারতী স্টেডিয়াম না পাওয়ায় রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামটাই হয়ে উঠেছে আতলেতিকো দে কলকাতার ঘরের মাঠ। আর তাতেই, ১৯৬১ সালে তৈরি হওয়া ২২ হাজার আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামটির পুর্নজন্ম। স্টেডিয়ামের চারদিকে বিশাল বিশাল পোস্টারের কাটআউট। হিউম, পোস্তিগাদের ছবি, কোনওটায় আবার বাংলার অর্ণব মন্ডল, দেবজিৎ-কিংশুকদের যুগলবন্দি। কোনও পোস্টারে লেখা 'আমার বুকে এটিকে", কোথাও আবার বিপক্ষ দলের প্রতি হুঙ্কার। স্টেডিয়ামের মূল ফটক থেকে রাস্তার দু-ধার কিছুটা কালো কাপড়ে মোড়া। আদালতের নির্দেশ মতো, পাখিরালয়কে সতেজ রাখতেই এই ব্যবস্থা। মাঠে ঢুকতেই চোখের আরাম। তৈরি হয়েছে সবুজে সাজানো মখমলের মতো সবুজ গালিচা। মাঝখানে, বিদেশি ঘরানায় কারুকাজ। এখানেই বল পায়ে দাপট দেখাবেন হিউম-দুতি-পোস্তিগারা।
একপাশের বসার জায়গাতে জড়ানো হয়েছে লালকার্পেট। অপরদিকে জায়েন্ট স্ক্রিন যেখানে দেখা যাবে খেলা। মাঝ-বরাবর দু’প্রান্তে বসানো হয়েছে নতুন চারটি আলোকস্তম্ভ। অস্থায়ী প্রেসবক্সে ওয়াই-ফাই জোন, টিভি। স্টেডিয়ামের ভিতরে আধুনিকতার মোড়কে তৈরি হয়েছে দুটি নতুন অস্থায়ী ড্রেসিংরুম। দর্শকদের স্বাছন্দ্যের কথা ভেবে পুর্নগঠিত দুটি বাথরুম। টিকিটের দাম অনুযায়ী চারভাগে বিভক্ত গ্যালারি। একটি বরাদ্দ ‘ফ্যানগ্যালারি’ হিসাবে।
শুধু, নেই-এর তালিকায় আইএসএল-এ চেনা ডিজে-দের রমরমা। আদালতের নির্দেশেই। স্টেডিয়াম এর বাইরে শরৎ ব্যানার্জি রোডের ভোলবদল ঘটেছে। চারিদিকে বাঁশের ব্যারিকেড, ঠিক দুর্গাপুজার ভিড় সামলাতে যেভাবে ঘিরে দেওয়া হয় সেভাবেই। প্রতিটি গেটে নিয়োগ করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী, চব্বিশ ঘন্টার জন্য। মাছি গলবারও অবকাশ নেই। প্রেস কার্ড ছাড়া স্টেডিয়ামে অন্যসময় ঢোকাও নিষেধ।
প্রথম ম্যাচ হয়ে গিয়েছে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে, গত ২ অক্টোবর। দ্বিতীয় ম্যাচ রবিবার। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের পর গতবারের ফাইনালিস্ট এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলবে কলকাতা। এ-বছর আইএসএল ট্রফি আসবে কিনা জানা নেই। তবে আতলেতিকো দে কলকাতার কর্তারা যে বাংলার একটি স্টেডিয়ামকে সুন্দর করে তুলে ধরলেন, সন্দেহ নেই।
No comments