অঁরির সামনে হারল কলকাতা ফোরলানের কাছে
আতলেতিকো দে কলকাতা ০ মুম্বই সিটি এফসি ১
(ফোরলান ৭৯)
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2119" align="alignleft" width="288"]
তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে তৃতীয় ম্যাচ জিতল মুম্বই সিটি এফসি। প্রথম ম্যাচে জয়ের গোল সাজিয়ে দিয়েছিলেন দিয়েগো ফোরলান, দুরন্ত ফ্লিকে। দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁরই একমাত্র গোল, পেনাল্টি থেকে। চোট পেয়েছিলেন, খেলতে পারেননি তারপর। ফিরেও গোল পাননি, জেতেনি মুম্বই। উরুগুয়ের বিশ্বকাপার দিয়েগো ফোরলান মুম্বই-কে তৃতীয় জয়ও এনে দিলেন দুর্দান্ত গোলে, আবার। ঘরের মাঠ রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামেই আতলেতিকো দে কলকাতা হেরে গেল মুম্বইয়ের কাছে। বলা উচিত ফোরলানের কাছেই!
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে তখন দাপট কলকাতারই। মুম্বই আক্রমণেই আসতে পারছে না। পিছিয়ে রয়েছে নিজেদের অর্ধে। লুসিয়ান রক্ষণে দুর্ভেদ্য, যে-কারণে ম্যাচের সেরাও। ঘনঘন আক্রমণ কলকাতার। ফুটবলে যেমন হ্য়, ৭৯ মিনিটে সোনি নর্দে বল নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন, প্রতি আক্রমণে। তাঁর শট প্রবীর দাসের শরীরের পেছনের দিকে লেগে দিক পরিবর্তন করে চলে এসেছিল ফোরলানের পায়ে, যিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন ছ’গজের বক্সে। চকিতে বাঁপায়ের জোরালো শট নেন, বল দেবজিৎ মজুমদারকে বাঁচানোর কোনও সুযোগ না দিয়ে জালে। আতলেতিকোর দুই ডিফেন্ডার তখন ফোরলানের সামনে। কিন্তু কেউ যেন খেয়ালই করলেন না ফোরলানের মতো বিপজ্জনক ফুটবলার দাঁড়িয়ে আছেন বক্সে!
কলকাতার শক্তি ছিল আক্রমণভাগ। হিউম, দুতি, লারা – সবাই গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন কোনও না কোনওভাবে। পেনাল্টি থেকে হিউম, সুযোগসন্ধানী দুতি অথবা ফ্রি কিক থেকে লারা। কিন্তু মঙ্গলবার সবাই-ই ব্যর্থ। দুতি অন্যদিনের মতো ছন্দে থাকলে হয়ত দুটি গোল পেয়ে যেতেন। প্রথমে ২৩ মিনিটে যখন হিউমের পাস পেয়েছিলেন দুতি। কিন্তু পিছলে যান। দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে গোমস ভুল করেছিলেন বল বুঝতে। দুতি আবারও বল পেয়েও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্ত বিদ্যানন্দ সিং দুর্দান্ত ক্রস পাঠিয়েছিলেন বক্সে যা মুম্বইয়ের গোলরক্ষক গোমস বুঝতে ভুল করেন। হিউম লাফিয়েছিলেন, বলে-মাথায় করতে পারেননি, একেবা্রে ফাঁকায়। ঠিক যেমন ৭২ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন সেই হিউমই। বাঁপায়ে তাঁর দুর্বল শট অবশ্য আটকাতে কোনও সমস্যা হয়নি গোমসের। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে লারাও ফ্রি কিক রেখেছিলেন গোলে। গোমস এবার আর কোনও ভুল করেননি বল বাইরে পাঠাতে।
প্রথমার্ধে দেবজিৎ অবশ্য বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতাকে, দুবার। ৩৬ মিনিটে ফোরলানের ফ্রি কিক। দেবজিৎ এগিয়ে এসে ফিস্ট করেছিলেন যখন, সোনি নর্দেও এসে চেষ্টা করেছিলেন পায়ে-বলে করতে। কিন্তু দেবজিতের হাত আগে পৌঁছয় বলে এবং সোনির সঙ্গে সংঘর্ষে দেবজিৎ আহত হন। সোনির পা উঁচুতে, প্রায় দেবজিতের মাথায়, স্টাড দেখা যাচ্ছে, দেবজিৎ গুরুতর আহত হতে পারতেন, কোনও রেফারি লাল কার্ডও পারতেন দেখাতে। তবে আঘাত তেমন গুরুতর হয়নি। তার ঠিক তিন মিনিট আগেই ম্যাচের সেরা সেভ করেছিলেন দেবজিৎ। সোনির দুরন্ত শট সোজা গোলের দিকে যাচ্ছিল। দেবজিৎ ঠিক সময়ে লাফিয়ে বল বের করে দেন। সেই কারণেই তাঁকে এখন ‘সেভজিৎ’ বলা হচ্ছে।
থিয়েরি অঁরির সামনে জিতে মুম্বই সিটি এফসি ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ৯ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা নেমে গেল তৃতীয় স্থানে। আর, কলকাতার হারের সঙ্গে সঙ্গেই তৃতীয় আইএসএল-এ রইল না আর কোনও অপরাজিত দল!
No comments