সময় এসেছে দিল্লির কিছু করে দেখানোর
সময় এসেছে দিল্লির কিছু করে দেখানোর।হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম মরসুমে তেমন ভাল খেলতে পারেনি। রোবের্তো কার্লোসের প্রশিক্ষণে গতবার অবশ্য ফাইনাল থেকে ৯০ মিনিট দূরে দাঁড়িয়েছিল।
সেমিফাইনালে প্রথম পর্বে ঘরের মাঠে ১-০ জিতেছিল এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। গোয়ায় গিয়ে ড্র রাখতে পারলেই ফাইনাল, এই পরিস্থিতিতে, কার্লোসকে টেক্কা দিয়ে বেরিয়ে যান আর-এক ব্রজিলীয় জিকো। চুড়ান্ত ম্যাচের এত কাছে পৌঁছেও ফিরে আসতে হয়েছিল, এ-জ্বালা মেটাতেই এবার তারা অন্তত আরও একধাপ এগোতে আগ্রহী।
আর দিল্লি ডায়নামোস যদি পারে এবার ফাইনালে উঠতে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ফুটবলের প্রসারে বিরাট সুবিধা হবে। ঠিক যেমন চেন্নাইয়িনের সাফল্যে ফুটবল এখন লোকের মুখে মুখে, ভারতের দাক্ষিণাত্যের এই শহরে। শেষ দশকে ফুটবল একেবারেই জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল চেন্নাই, ছিল না কোনও ফুটবল-সংস্কৃতি। চেন্নাইয়িনের সাফল্যে বদলে গিয়েছে ছবি।
কার্লোস যদিও ফিরে আসেননি আর। দিল্লির তাতে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা লেফট ব্যাকের জায়গায় তারা কোচ করে এনেছে আর এক কিংবদন্তি জিয়ানলুকা জামব্রোতাকে।
২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন জামব্রোতা। কোচ হিসাবে কার্লোসের তেমন কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। জামব্রোতা কিন্তু দ্বিতীয় বিভাগের সুইস ক্লাব এফসি কিয়াসোর দায়িত্বে ছিলেন।
এসেই তিনি নতুন দায়িত্বে চমক দেখাবেন,এমন আশা বাড়াবাড়ি মনে হতেই পারে। কিন্তু, আইএসএল-এ প্রত্যাশার দাবিগুলো এমনই। সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করতে হলে জবরদস্ত শুরু চাই। দিল্লি কি পারবে? কাগজে-কলমে যা দল, না-পারার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ কিন্তু নেই।
যে-বিদেশিরা গত বছর বেশ ভাল খেলেছিল, দিল্লি রেখে দিয়েছে তাদের এবারও। যেমন গোলরক্ষক টোনি ডবলাস। নতুন চুক্তি হয়েছে তাঁর সঙ্গে। স্ট্রাইকার রিচার্ড গাডজে যদিও রোজ গোল করে হইচই ফেলেননি, কিন্তু আইএসএল-এ তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পদ হতেই পারে। আর ফ্লোরেন্ত মালুদা-কে কী করেই বা ভুলবেন কেউ? গতবারের লিগে তিনি ছিলেন সব দলের মধ্যেই অন্যতম সেরা।
মালুদাকে আগের বারের মতোই ছন্দে থাকতে হবে, দিল্লিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তাঁকে সাহায্য করতে চেন্নাইয়িন থেকে এবার এসেছেন ব্রুনো পেলিসারি। তরুণ এই ব্রাজিলীয় মিডফিল্ডার প্রথম দুবছরে বিপক্ষ দলগুলিকে বুঝিয়ে ছেড়েছিলেন তাঁর দাপট।
সেনেগালের ইব্রাহিম নিয়াসে, স্পেনের মার্কোস তেবার, ব্রাজিলের মেমোও আছেন,মাঝমাঠে দিল্লি-কোচের ভরসা বাড়াতে। ভারতীয়দের মধ্যে জামব্রোতার আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেন ডেনসন দেবদাস, গতবার যিনি বেশ ভাল খেলেছিলেন এফসি গোয়ার হয়ে। আছেন মিলন সিং, কিন লুইসও।
আইএসএল-এর সূচি বেশ গায়ে-গায়ে। পরপর ম্যাচ খেলতে হয়, বিশ্রামের সুযোগ কম। তাই মানিয়ে-গুছিয়ে নিতে কয়েকটা ম্যাচ লেগে যায়। দিল্লির এবার প্রধান কাজ ছিল রক্ষণভাগের শক্তি বাড়ানো। বিশেষত,লিভারপুলের প্রাক্তন ফুটবলার জন আর্নে রিসে দল ছেড়ে যাওয়ায়। সুবিধা এই যে,কোচ জামব্রোতা নিজেও ডিফেন্ডার ছিলেন। জানেন সাফল্য পেতে আঁটোসাটো রক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রেয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন ডিফেন্ডার রুবেন গোঞ্জালেজ,ঘানার জাতীয় দলের লেফট ব্যাক ডেভিডঅ্যাডির সঙ্গে আনাস এদাথোদিকা, শৌভিক চক্রবর্তী ও নর্থ-ইস্টের তরুণ প্রতিভা লালছনকিমা ও লালরুয়াথারা – জামব্রোতার হাতে প্রচুর ডিফেন্ডার এখন।
এমনকি আক্রমণেও বিপক্ষকে চিন্তায় ফেলার মতো বেশ কয়েকজন দিল্লি ডায়নামোসে। গাডজে এসে যাওয়ায় এমন একজনকে পেয়েছে আইএসএল-এ খেলার অভিজ্ঞতা আছে যাঁর। গোল করেছেন আগেও, সঙ্গে এবার পাচ্ছেন সেনেগালের জাতীয় দলের ফুটবলার বাদারা বাদজি-কে। অর্জুন টুডু সার্ভিসেসের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে দারুণ খেলে নজর কেড়েছিলেন। জাতীয় দলে ডাকও পেয়েছিলেন অর্জুন,এবার আইএসএল-এ যিনি অবাক করে দিতেই পারেন অনেককে।
স্পেনে প্রাক-মরসুম অনুশীলনে গিয়েছিল দিল্লি। স্পেনের ম্যাচগুলো বলে দিয়েছে,দল হিসাবে ক্রমশ উন্নতি করছে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে কখনও সেভাবে ট্রফি জেতার নিশ্চয়তা না-দেখালেও, এবার সময় এসেছে সফল হয়ে দেখিয়ে দেওয়ার যে, দিল্লিও পারে!
No comments