• Breaking News

    ১৫ সেকেন্ডে অলিম্পিকের দ্রুততম গোল, ফাইনালে নেইমাররা

    ব্রাজিল ৬        হন্ডুরাস ০


    নেইমার ১, ৯১, খেসুস ২৫, ৩৫, মার্কুইনিওস ৫১, লুয়ান ৭৫


     

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_1443" align="alignleft" width="300"]নেইমার ও গাব্রিয়েল খেসুস, হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে জোড়া গোল যাঁদের, বুধবার মারাকানাতে নেইমার ও গাব্রিয়েল খেসুস, হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে জোড়া গোল যাঁদের, বুধবার মারাকানাতে[/caption]

    ১৫ সেকেন্ডে গোল! অলিম্পিক ইতিহাসে দ্রুততম। নেইমার ও ব্রাজিলকে আর রোখা যায়নি। মারাকানা স্টেডিয়ামে অলিম্পিকের সেমিফাইনালে হন্ডুরাসকে উড়িয়ে দিল হাফডজন গোলে!

    খেলা শুরু করেছিল হন্ডুরাস। কিক অফ থেকে তাঁদের তিনজনের পাস, পেছন দিকে। নেইমার তেড়ে গিয়েছিলেন স্টপার জনি পালাসিওসের দিকে, পেয়ে যান বলের দখল। গোলরক্ষক লুইস লোপেজ এগিয়ে এসেছিলেন। আটকাতে পারেননি ব্রাজিলের অধিনায়ককে। বল গোলে পাঠানো এবং আগুয়ান গোলরক্ষককে এড়ানো, এই দুটো কাজ করতে গিয়ে নিজের হাতের ওপর পড়ে গিয়েছিলেন নেইমার। গোল উদযাপন করতে গিয়ে আবারও পড়ে যান। স্ট্রেচার ডাকতে হয়, মাঠের বাইরে। কিন্তু মারাকানার দর্শকদের উৎকণ্ঠা না বাড়িয়ে খানিকক্ষণ পরই মাঠে নামেন ব্রাজিলের অধিনায়ক। ম্যাচে আরও দুটি গোলের পাস বাড়িয়ে শেষে পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল। আবারও অলিম্পিকের ফাইনালে ব্রাজিল!

    অথচ, অলিম্পিক ফুটবলে ব্রাজিলের শুরুটা বেশ খারাপই ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইরাকের বিরুদ্ধে পরপর দুটি ম্যাচে ০-০। নেইমার তখন খলনায়ক! ব্রাজিলের হলুদ জার্সির পেছনে নেইমারের নাম কেটে ব্রাজিলের মহিলা ফুটবলার মার্তার নাম লেখা হচ্ছিল কারণ মেয়েরা ভাল ফুটবল খেলছিল ছেলেদের চেয়ে। মেয়েদের দল সেমিফাইনালে সুইডেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পরের দিন নেইমাররা স্বমহিমায় উজ্জ্বল। দর্শকদের কাছেও আবার দেশের রক্ষাকর্তা সেই নেইমারই, প্রতিযোগিতায় তিন গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট-এর মাধ্যমে।

    অনূর্ধ্ব ২৩ প্রতিযোগিতায় খেলতে এসে নেইমারের এই ছন্দ প্রত্যাশিত। প্রথম দুটি ম্যাচে তা পাওয়া যায়নি বলেই তো সমস্যা! প্রথম দুই ম্যাচের পরই অলিম্পিক দলের ম্যানেজার নেইমারকে নিয়ে এসেছিলেন আক্রমণের মাঝখানে। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে নেইমার বার্সেলোনায় কাজে আসেন বেশি, ব্রাজিলের জাতীয় দলে তাঁকে মাঝখানেই দরকার, বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের সরাসরি আক্রমণ করতে পারবেন বলে। তাঁকে মাঝে পেয়ে গাবিগোল আর গাব্রিয়েল খেসুসও ছন্দে, সঙ্গে লুয়ানও। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যে-ম্যাচটা জিততেই হত গ্রুপ লিগে, গাবিগোলের জোড়া গোল ছিল, খেসুস ও লুয়ানের একটি করে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রি কিক থেকে নেইমারের গোলের পর লুয়ান, ৮৩ মিনিটে। আর হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে খেসুসের জোড়া গোল, মার্কুইনিওস ও লুয়ানের একটি করে।

    পাঁচ ম্যাচে ব্রাজিল গোল করল ১২, খায়নি একটাও। ৪৫০ মিনিট গোল না-খাওয়ার রেকর্ড নিয়ে ফাইনালে। মারাকানাতেই ফাইনাল মানে আবার্ ফিরে আসবে ১৯৫০ বিশ্বকাপের স্মৃতি, যা থেকে দূরে থাকতে ২০১৪ বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও খেলেনি ব্রাজিল রিও-তে। আশা ছিল, খেলবে ফাইনালে, একেবারে। হয়নি তেমন। এবার সোনাজয়ের লক্ষ্যে সামনে নাইজেরিয়া বনাম জার্মানি ম্যাচের বিজয়ী। আগে তিন-তিনবার অলিম্পিকের ফাইনালে উঠেও সোনা আসেনি। গতবার লন্ডনে তো মেক্সিকো ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সোনা, নেইমারদের পা থেকে। এবার যদি জার্মানি ওঠে ফাইনালে, নেইমাররা কি পারবেন ২০১৪ বিশ্বকাপের ১-৭ দুঃসহ স্মৃতি ভোলাতে, আগামী শনিবার?

    No comments